ছাত্রী ধর্ষণে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের নতুন কাণ্ড, ছেলের বান্ধবীর সঙ্গে প্রেম শেষে বিয়ে

২০১৩ সালে সাঈদ মেহেদীর বিরুদ্ধে আবাসিক হোটেলে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়।তখন সেই ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। ঠিক নয় বছর পর নতুন কাণ্ডে আলোচনায় আসলেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী।

নিজের ছেলে অনিক মেহেদীর বান্ধবী তাহমিনা আক্তার মিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বিয়ে করেছেন বাবা সাঈদ। চার বছর এ সম্পর্ক লুকিয়ে রাখলেও সম্প্রতি তা ফাঁস হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে অনিক

মেহেদীর বান্ধবী তাহমিনা আক্তার মিনার। ছেলের বান্ধবী হওয়ার সুবাধে মিনার ওপর আসক্ত হয়ে পড়েন। এরপর গোপনে তাহমিনা আক্তার মিনাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন চেয়ারম্যান মেহেদী।

গত কয়েক মাস আগে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে সাঈদ মেহেদীর এ বিয়ের একটি ভিডিও। ভিডিও ভাইরাল হলেও বিষয়টি তখন ধোঁয়াশার মধ্যে রাখেন তিনি। তবে এবার বিয়ের কথা স্বীকার করলেন চেয়ারম্যান।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যানের কোয়ার্টারে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে আছেন। দ্বিতীয় বিয়ে করায় তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে বিরোধ চলছে।

কোয়ার্টারের আশপাশে বসবাসরত অনেকে জানান, গত কয়েক মাস যাবত উপজেলা চেয়ারম্যানের কোয়ার্টারের ভেতরে দিনরাত এক তরুণীকে দেখতে পাওয়া যায়। তবে মাঝেমধ্যে কোয়ার্টারের ভেতর থেকে মারপিটের শব্দ শোনা যায়। প্রতিদিন সাহরির সময় চেয়ারম্যান কাউকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।এর আগে, ২০১৩ সালে আবাসিক হোটেলে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয় উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, দ্বিতীয় স্ত্রী তাহমিনা আক্তার মিনা ছিলেন সাঈদ মেহেদীর প্রথম স্ত্রীর ছেলে অনিক মেহেদীর বান্ধবী। ২০১৮ সালে মিনা ও অনিক মৌতলা শিমুরেজা এমপি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান থাকাকালীন মিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী।

দ্বিতীয় বিয়ে সম্পর্কে জানতে চাইলে কালিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন। তার কোয়ার্টারে দ্বিতীয় স্ত্রী মিনা বর্তমানে অবস্থান করছেন। তাকে চার বছর আগে তিনি বিয়ে করেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রথম স্ত্রী লাভলী পারভীন জানান, তার স্বামীকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছে মিনা। এখন তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের কোয়ার্টারে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী তাহমিনা আক্তার মিনার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।