ঢাকায় ১৪ শতাংশ গৃহশ্রমিক মজুরি পান না

রাজধানীর আবাসিক গৃহশ্রমিকদের ১৪ শতাংশই কোনো মজুরি পান না। পেটে-ভাতে, অর্থাৎ থাকা ও খাওয়ার বিনিময়ে শ্রম দিয়ে থাকেন তারা। গৃহশ্রমিকদের ৬৪ শতাংশেরই সাপ্তাহিক বা মাসিকজাতীয় কোনো রকম ছুটি নেই। গৃহশ্রমিকদের গড় মাসিক মজুরি চার হাজার ৬২৯ টাকা। করোনাকালে মজুরি কমেছে ২৮ শতাংশ গৃহশ্রমিকের।

ঢাকায় কর্মরত গৃহশ্রমিকদের নিয়ে ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অপফ্যাম ইন বাংলাদেশ ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার সহায়তায় ‘সুনীতি’ প্রকল্পের আওতায় জরিপটি পরিচালনা করা হয়। গণসাক্ষরতা অভিযান, হ্যালোটাস্ক, নারী মৈত্রী, রেড অরেঞ্জ ও ইউসেপ বাংলাদেশ জরিপ পরিচালনায় সহায়তা করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিলসের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য নইমুল আহসান জুয়েল জরিপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী আবুল হোসাইন, অপফ্যাম ইন বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়কারী গীতা রাণী অধিকারী, জরিপ পরিচালনাকারী টিমের প্রধান জাকির হোসেন খান প্রমুখ।

জরিপে দেখা গেছে, আবাসিক গৃহশ্রমিকদের ৫১ শতাংশ তাদের আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। এদের ৩৯ শতাংশের বয়সই ১৮ বছরের নিচে। মজুরি প্রসঙ্গে জরিপের ফলাফলে বলা হয়, ৯০ শতাংশ শ্রমিকই সাত হাজার টাকার কম মজুরি পেয়ে থাকেন। তবে যাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ রয়েছে, তাদের গড় আয় ৯ হাজার টাকা। মজুরি নির্ধারণেও কোনো মানদণ্ড নেই। ৭২ শতাংশ গৃহশ্রমিকের মজুরি কাজের ধরনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়ে থাকে। কর্মঘণ্টার ভিত্তিতে মজুরি নির্ধারিত হয় ৬ শতাংশের। গৃহশ্রমিকদের ৯৯ শতাংশের নিয়োগপত্র কিংবা নিয়োগকর্তার সঙ্গে লিখিত কোনো চুক্তি নেই।

জরিপে অংশ নেওয়া গৃহশ্রমিকদের ৩২ শতাংশ আবাসিক ও ৩৬ শতাংশ অনাবাসিক শ্রমিক জানিয়েছেন, শারীরিক ও মানসিক চাপ দিয়ে জবরদস্তিমূলক শ্রমে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের। গালাগালের শিকার হতে হয় প্রায়ই। ৫০ শতাংশ শ্রমিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এসব নিপীড়ন রোধে ২০১৫ সালে গৃহশ্রমিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা অনুমোদন করেছে সরকার। এতে নিয়োগকর্তা, কর্মচারী ও সরকারের দায়দায়িত্বসহ ১৬টি বিধান রয়েছে। সরকার ঘোষিত এই নীতির কথা জানে না ৮৬ শতাংশ গৃহশ্রমিক। নীতিমালায় গৃহশ্রমিকের কাজকে একটি পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*